পশ্চিমবঙ্গে চালু হওয়া অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পকে ঘিরে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। ইতিমধ্যে বহু মহিলা এই প্রকল্পের মাসিক ৩০০০ টাকা পেয়ে গিয়েছেন। এছাড়াও যারা আবেদন জানিয়েছেন তারা কবে টাকা পাবেন এই নিয়ে সকলের মধ্যে রয়েছে জল্পনা। যারা নতুন করে আবেদন করেছেন বা আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—কবে থেকে অ্যাকাউন্টে আসবে মাসিক ৩,০০০ টাকার আর্থিক অনুদান?

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই নতুন আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে। এখন প্রশ্ন হল যারা নতুন করে আবেদন জানাবেন তাদেরকে এই মাসেই টাকা ঢুকবে নাকি তাদের আবার পরবর্তী মাসের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আজকের প্রতিবেদনে এই নিয়ে থাকলে বিস্তারিত আলোচনা।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, প্রকল্পের প্রথম ধাপে লক্ষাধিক উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সহায়তার অর্থ পাঠানো হয়েছে। কাইল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারের সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন ২৮ লক্ষ ২৫ হাজারের বেশি উপভোক্তার একাউন্টে সরাসরি ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) পদ্ধতিতে টাকা দেওয়া হয়েছে।সরকারের দাবি, প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তাদের দ্রুত সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদনপত্র, নথি এবং ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হবে। এছাড়াও সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে সাধারণত ৭ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
তবে আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হলে এবং যাচাই প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে কিছু ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় লাগতে পারে। এর ফলে জুন মাসে আবেদন করলে জুন মাসের ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যেই আবার নতুন করে টাকা পেয়ে যেতে পারেন অথবা আবেদনের সংখ্যা যদি বেশি হয়ে যায় তাহলে আপনাদের জুলাই মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযুক্ত থাকা এবং DBT পরিষেবা সক্রিয় থাকা। তাই যাদের একাউন্টে এখনও পর্যন্ত DBT লিংক করা হয়নি তাদের অতি অবশ্যই এই লিঙ্ক করিয়ে নিতে হবে না হলে পরবর্তীকালে আপনারা আর টাকা পাবেন না।
অনলাইন ও অফলাইন আবেদন—দুই ব্যবস্থাই চালু
বর্তমানে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য অনলাইন এবং অফলাইন—দুই মাধ্যমেই আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। যারা অফলাইনে আবেদন করতে চান তারা আবেদন পত্রটি ফিলাপ করে পঞ্চায়েত অফিসে বা বিডিও অফিসে গিয়ে জমা দিতে পারেন। এছাড়াও যারা অনলাইনে আবেদন করবেন তাদের সরাসরি সরকারি পোর্টালে গিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি আপলোড করে ডকুমেন্টস ফিলাপ করে আবেদন পত্রটি জমা করতে হবে।
নতুন আবেদনকারীদের নিম্নলিখিত নথি প্রস্তুত রাখতে হবে—
- আধার কার্ড
- ভোটার পরিচয়পত্র
- রেশন কার্ড
- ব্যাংক পাসবইয়ের কপি
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- আয়ের শংসাপত্র
- বাসস্থানের প্রমাণপত্র
- আধারের সঙ্গে সংযুক্ত মোবাইল নম্বর
নথিতে কোনও ভুল তথ্য থাকলে আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যারা আবেদন করতে পারবেন না তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ সুবিধা এক্ষেত্রে সরকারি আধিকারিকরা আপনাদের বাড়িতে গিয়ে আপনাদের সমস্ত ডকুমেন্ট সংগ্রহ করে তারাই আবেদন করে দেবেন। প্রয়োজনে সরকারি কর্মীরা আবেদনকারীদের বাড়িতে গিয়েও ফর্ম পূরণ এবং নথি আপলোডে সাহায্য করবেন বলে জানানো হয়েছে। ফলে প্রযুক্তিগত কারণে কেউ যাতে সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
প্রশাসনের মতে, যাঁরা আগে আবেদন করবেন এবং সঠিকভাবে সমস্ত নথি জমা দেবেন, তাঁদের আবেদন দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হবে। ফলে আর্থিক সহায়তার অর্থও তুলনামূলক দ্রুত অ্যাকাউন্টে পৌঁছাতে পারে।
তাই যোগ্য মহিলাদের দেরি না করে দ্রুত আবেদন সম্পূর্ণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
