পশ্চিমবঙ্গে জমি ও বাড়ি রেজিস্ট্রেশনের সময় আর দালালের ঘুরপাক নয়! রাজ্য সরকার এবার চালু করতে চলেছে একটি নতুন সরকারি হেল্পলাইন পরিষেবা, যার মাধ্যমে নাগরিকরা সরাসরি তথ্য ও সাহায্য পাবেন রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত সব বিষয়ে।

এই নতুন উদ্যোগের লক্ষ্য — স্বচ্ছতা, দুর্নীতিমুক্ত পরিষেবা এবং দ্রুত সমাধান। দীর্ঘদিন ধরে জমি রেজিস্ট্রেশনের সময় সাধারণ মানুষকে নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে — দালালদের বাড়তি টাকা দাবি, ভুয়া তথ্য, ও অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব। এই সমস্ত সমস্যার অবসান ঘটাতে সরকারের এই পদক্ষেপকে বলা হচ্ছে এক “গেম চেঞ্জার উদ্যোগ”

কীভাবে কাজ করবে এই নতুন Land Registration Helpline?

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই হেল্পলাইনটি প্রাথমিকভাবে একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ ভয়েস রেসপন্স (IVR) সিস্টেমের মাধ্যমে কাজ করবে। অর্থাৎ, ফোন করলেই নাগরিকরা রেজিস্ট্রেশন সম্পর্কিত মূল তথ্য পেয়ে যাবেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে।

যদি কোনও জটিল বিষয় থাকে, তাহলে নাগরিকরা সরাসরি ডিরেক্টরেট অফ রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড স্ট্যাম্প রেভিনিউ (DRSR)-এর আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন।

এর ফলে, নাগরিকদের আর অফিসে গিয়ে ঘুরতে হবে না বা দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে হবে না।

হেল্পলাইন নম্বর ও ওয়েবসাইট

হেল্পলাইন নম্বরটি খুব শীঘ্রই রাজ্যের সরকারি পোর্টালে প্রকাশ করা হবে —
🔗 https://igr.wb.gov.in/

এই পোর্টালে লগইন করেই নাগরিকরা জানতে পারবেন —

  • দলিল রেজিস্ট্রেশনের অবস্থা
  • ই-ডিড জমা দেওয়ার পদ্ধতি
  • স্ট্যাম্প ডিউটি সংক্রান্ত তথ্য
  • দলিলের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের নিয়ম

Land Registration Helpline-এর মূল উদ্দেশ্য

এই নতুন হেল্পলাইন চালুর পেছনে সরকারের কয়েকটি স্পষ্ট লক্ষ্য রয়েছে —

উদ্দেশ্য বিস্তারিত
দুর্নীতিমুক্ত পরিষেবা দালালের মাধ্যমে নয়, সরাসরি সরকারি সহায়তা পেতে পারবেন সাধারণ মানুষ।
স্বচ্ছতা বৃদ্ধি সমস্ত প্রক্রিয়া ও চার্জ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া হবে নাগরিকদের।
সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা একটি ফোন কলেই প্রাথমিক তথ্য ও সঠিক দিকনির্দেশনা মিলবে।
জনসচেতনতা বৃদ্ধি দলিলের ধরন, ই-ডিড, স্ট্যাম্প ডিউটি ইত্যাদি বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো হবে।

কেন এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ

জমি ও সম্পত্তি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দালালচক্রের কারণে বিতর্কিত হয়ে উঠেছিল। সাধারণ মানুষ প্রায়ই হয়রানির শিকার হয়েছেন।

এই হেল্পলাইন চালু হলে —

  • মানুষ সরাসরি সরকারি উৎস থেকে তথ্য পাবেন
  • ভুল ও বিভ্রান্তি কমবে
  • মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা প্রায় শেষ হয়ে যাবে
  • রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া হবে আরও দ্রুত, সুরক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য

Land Registration প্রক্রিয়ায় কী কী পরিবর্তন আসছে

নতুন উদ্যোগের পাশাপাশি রাজ্য সরকার আরও কিছু আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে জমি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায়।

  • ই-ডিড (E-Deed) System: অনলাইনে দলিল জমা ও ডিজিটাল সিগনেচারের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন।
  • অনলাইন ফি পেমেন্ট: স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন ফি অনলাইনে জমা দেওয়া যাবে।
  • রিয়েল টাইম স্ট্যাটাস ট্র্যাকিং: আবেদনকারী সরাসরি ওয়েবসাইট থেকে রেজিস্ট্রেশনের অগ্রগতি দেখতে পারবেন।

সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া

কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা এবং মেদিনীপুরের বিভিন্ন রেজিস্ট্রি অফিসে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া বেশ ইতিবাচক।
একজন আবেদনকারী বলেন —

“আগে ছোটো একটা দলিল করতে গেলেও দালাল ছাড়া উপায় ছিল না। এখন যদি হেল্পলাইনের মাধ্যমে সরাসরি তথ্য পাই, তাহলে সেটা অনেক স্বস্তির হবে।”

সরকারি সূত্রে কী জানা যাচ্ছে

অর্থ দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন —

“আমাদের মূল লক্ষ্য হলো জমি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি ডিজিটাল ও স্বচ্ছ করা। নতুন হেল্পলাইন চালু হলে গ্রামীণ ও শহুরে নাগরিকরা একইভাবে সুবিধা পাবেন।”

তিনি আরও বলেন —

“এই পরিষেবা শুধু সমস্যার সমাধান দেবে না, বরং মানুষকে সঠিক নিয়ম সম্পর্কে শিক্ষা দেবে।”

যেসব পরিষেবা পাওয়া যাবে এই হেল্পলাইনে

পরিষেবার ধরন সুবিধা
দলিল রেজিস্ট্রেশন তথ্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট, ফি, প্রক্রিয়া সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা
ই-ডিড জমা অনলাইন প্রক্রিয়ার নির্দেশিকা ও সমস্যা সমাধান
সার্টিফায়েড কপি তোলা কপি পাওয়ার নিয়ম ও প্রয়োজনীয় চার্জ সংক্রান্ত তথ্য
স্ট্যাম্প ডিউটি সমস্যা ভুল পরিমাণ, রিফান্ড বা পুনরায় জমা সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা
অভিযোগ জানানো দুর্নীতি বা বিলম্বের অভিযোগ সরাসরি কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো

অন্য রাজ্যেও কি আসছে এমন হেল্পলাইন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের এই পদক্ষেপ দেশের অন্যান্য রাজ্যের জন্যও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
মহারাষ্ট্র, কেরালা, কর্ণাটক ও তেলেঙ্গানার মতো রাজ্যেও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন পরিষেবা চালু হলেও, “একক হেল্পলাইন” মডেলটি এখনো পুরোপুরি গৃহীত হয়নি।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই Land Registration Helpline 2025 উদ্যোগ জমি রেজিস্ট্রেশনের জগতে একটি বিপ্লব আনতে চলেছে।
এর ফলে —

  • দালালমুক্ত পরিষেবা নিশ্চিত হবে,
  • তথ্য হবে আরও স্বচ্ছ,
  • সাধারণ মানুষ পাবেন সরাসরি সরকারি সহায়তা।

এক কথায় বলা যায়, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে “দালালের দিন শেষ”, আর জমি রেজিস্ট্রেশনের কাজ হবে আরও সহজ, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য।

সরকারি ওয়েবসাইট: https://igr.wb.gov.in/
হেল্পলাইন নম্বর: শীঘ্রই প্রকাশিত হবে
পরিষেবা কার্যকর হবে: অক্টোবর 2025 থেকে

আপনি কি জমি বা বাড়ি রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কোনও সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন? নিচে মন্তব্যে আপনার প্রশ্ন লিখে জানান — আমরা আপনার জন্য সরকারি তথ্য নিয়ে আসব!