উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে, আপনিও কি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে চান, কিন্তু অর্থের অভাবে সেই স্বপ্ন মাঝপথে থেমে যায়। তাহলে আর চিন্তা নেই এবার আপনি যতদূর ইচ্ছে পড়াশোনা করতে পারেন অর্থ আর বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। ঠিক এই জায়গাতেই ভরসার নাম জি পি বিড়লা স্কলারশিপ ২০২৬। মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য এই স্কলারশিপ। মেধাবী অথচ আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়াতে প্রতি বছরের মতো এবারও বৃত্তির ঘোষণা করেছে GP Birla Educational Foundation।

পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়াদের জন্য এই স্কলারশিপ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের প্রচুর ছাত্র ছাত্রী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করার স্বপ্ন থাকলেও আর্থিক সমস্যার কারণে মাঝপথে পড়াশুনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। উচ্চ মাধ্যমিকের ফল ভালো হলে এবং পারিবারিক আয় নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকলে মিলতে পারে বছরে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা।

জি পি বিড়লা স্কলারশিপ কী?

এই স্কলারশিপটি একটি বেসরকারি শিক্ষা সহায়তা প্রকল্প, যা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শিল্পপতি ও সমাজসেবী Ghanshyam Das Birla-র স্মৃতির উদ্দেশ্যে গঠিত ট্রাস্ট। ছাত্র-ছাত্রীদের কথা মাথায় রেখে এবং তাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই স্কলারশিপ আনা হয়েছে বিড়লা কোম্পানি তরফ থেকে। মূল লক্ষ্য হলো—অর্থের অভাবে যাতে কোনো মেধাবী ছাত্র বা ছাত্রী স্নাতক স্তরের পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত না হয়। প্রতি বছর নির্বাচিত পড়ুয়ারা স্নাতক কোর্স চলাকালীন আর্থিক সহায়তা পান, যা তাদের কলেজ ফি, হোস্টেল খরচ বা শিক্ষাসংক্রান্ত অন্যান্য ব্যয়ে কাজে লাগে। এর ফল ছাত্রছাত্রীরা বাইরে থেকে পড়াশোনা করতে পারেন এবং তাদের আর্থিক খরচ নিজেরাই চালাতে পারেন।

Eligibility Criteria: কারা আবেদন করতে পারবেন?

জি পি বিড়লা স্কলারশিপ ২০২৬-এ আবেদন করার জন্য নিচের শর্তগুলি পূরণ করতে হবে—

বাসস্থান

  • আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গ অথবা ঝাড়খণ্ডের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

  • West Bengal Council of Higher Secondary Education বোর্ডের ছাত্রছাত্রীদের উচ্চ মাধ্যমিকে ন্যূনতম ৮০-৮৫% নম্বর থাকতে হবে।
  • Central Board of Secondary Education (CBSE) অথবা Council for the Indian School Certificate Examinations (ISC) বোর্ডের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৯০% নম্বর আবশ্যক।

কোর্স সংক্রান্ত শর্ত

  • ভারতের যেকোনো স্বীকৃত কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক (Undergraduate) কোর্সে ভর্তি হতে হবে। অর্থাৎ রেগুলার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে আপনি যদি পড়াশোনা বন্ধ করে দেন তাহলে এখান থেকে আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে না।

পারিবারিক আয়

  • বার্ষিক পারিবারিক আয় ৩ লক্ষ টাকার কম হতে হবে।

Scholarship Amount: কত টাকা পাবেন?

এই স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত ছাত্রছাত্রীরা পাবেন—

 ১. বার্ষিক আর্থিক সহায়তা

  • বছরে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা (কলেজ ফি/হোস্টেল খরচের জন্য)।

 ২. বই কেনার অনুদান

  • প্রথম বছরে এককালীন ৭,০০০ টাকা বই কেনার জন্য।

 ৩. রিনিউয়াল সুবিধা

  • স্নাতক কোর্স শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি বছর ফলাফল সন্তোষজনক হলে স্কলারশিপ নবীকরণ করা যাবে।

Required Documents: কী কী নথি লাগবে?

আবেদন করার সময় নিম্নলিখিত ডকুমেন্টগুলি প্রস্তুত রাখতে হবে—

  • রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি
  • উচ্চ মাধ্যমিকের মার্কশিট
  • কলেজে ভর্তির প্রমাণপত্র/রসিদ
  • পারিবারিক আয়ের সার্টিফিকেট
  • আধার কার্ড বা প্যান কার্ড

সব নথি পরিষ্কারভাবে স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে (অনলাইন আবেদন করলে)।

How to Apply: কীভাবে আবেদন করবেন?

জি পি বিড়লা স্কলারশিপ ২০২৬-এ আবেদন করা যাবে অনলাইন ও অফলাইন—দুই পদ্ধতিতেই

 অনলাইন আবেদন পদ্ধতি

আপনি যদি অনলাইনে আবেদন করতে চান তাহলে আপনাকে অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে আবেদন জানাতে হবে। এক্ষেত্রে আপনাকে নিচের পদ্ধতি অবলম্বন করে আবেদন পত্রটি সম্পন্ন করতে হবে-

১. অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান।
২. ‘Apply Online’ অপশনে ক্লিক করুন।
৩. প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ করুন।
৪. ডকুমেন্ট আপলোড করে সাবমিট করুন।

 অফলাইন আবেদন পদ্ধতি

  • ওয়েবসাইট থেকে আবেদনপত্র ডাউনলোড করে প্রিন্ট নিন।
  • সঠিকভাবে পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথিসহ ডাকযোগে পাঠান—

ঠিকানা:
G P Birla Educational Foundation
78, Syed Amir Ali Avenue,
Kolkata – 700019

Selection Process: কীভাবে নির্বাচন হবে?

আবেদন জমা পড়ার পর বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রার্থীদের—

  • একাডেমিক ফলাফল
  • পারিবারিক আর্থিক অবস্থা

এই দুই মানদণ্ডের ভিত্তিতে যাচাই করেন। শর্টলিস্টেড প্রার্থীদের ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হতে পারে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হলে স্কলারশিপের অর্থ সরাসরি ছাত্রছাত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়।

কেন এই স্কলারশিপ গুরুত্বপূর্ণ?

বর্তমান সময়ে কলেজ ফি, হোস্টেল খরচ এবং অন্যান্য শিক্ষাব্যয় দ্রুত বাড়ছে। এছাড়াও বর্তমান সমস্ত কিছুর দাম আগের তুলনায় বেড়ে যাচ্ছে তাই টাকার পরিমাণও বাড়ানো হলো। এমন পরিস্থিতিতে বছরে ৫০,০০০ টাকার আর্থিক সহায়তা একজন ছাত্রছাত্রীর জন্য বিশাল স্বস্তি। শুধু অর্থ নয়, এই স্কলারশিপ মেধাবী পড়ুয়াদের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে তোলে। এর ফলে ছাত্রছাত্রীরা বিনা চিন্তায় এবং আর্থিক সমস্যা সমাধান করে নিজের স্বপ্ন পূরণ করার জন্য উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে।আপনি যদি উচ্চ মাধ্যমিকে উজ্জ্বল ফল করে থাকেন এবং আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হয়, তাহলে GP Birla Scholarship 2026 আপনার জন্য একটি বড় সুযোগ। প্রচুর ছাত্র ছাত্রী আছে যারা পড়াশোনা করতে চান কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না তাদের জন্য এবার এই স্কলারশিপ একটি দুর্দান্ত সুযোগ এনে দিচ্ছে। তাই এখনো সময় আছে ভালো ফল করুন উচ্চমাধ্যমিকে এবং সময় নষ্ট না করে প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত রাখুন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করুন।

বিশেষ পরামর্শ: আবেদনের শেষ তারিখ ও আপডেট জানতে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট নিয়মিত দেখুন।